সফটওয়্যার শিল্পের উন্নতিতে দেশীয় ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা

বাংলাদেশের ট্রেনিং সেন্টার নিয়ে একটি গবেষণার অংশ হিসাবে আমাদের দেশীও ট্রেনিং সেন্টারগুলোর ওয়েবসাইট, কোর্স ও কারিকুলাম দেখছিলাম। দেখার পর মনে হল এবিষয়ে একটা কিছু লেখা উচিৎ। আমার মনে হয়ে আমাদের দেশে ফ্রীলেন্সার/ফ্রিলেন্সিং শব্দটার অতি ব্যাবহার ও অপব্যাবহার দুটোই ব্যাপক হারে চলছে। বেশিরভাগ ট্রেনিং সেন্টারগুলোও তাদের ট্রেনিং এ এটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।  ফ্রিলেন্সিং আসলে একটা স্বাধীন পেশা। ফ্রিলেন্সিং বলে যদি আমরা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদিকে বুঝাই তাহলে আসলে শব্দটার প্রতি অবিচার করা হয়। ফ্রিলেন্সিং মানেই খারাপ নয়, তবে আমরা কি কাজ ফ্রিলেন্সিং করছি সেটাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সফটওয়্যার বানানো একটা জটিল কাজ, খুব সহজ কিছু না হলে, একার পক্ষে একটা ভালো সফটওয়্যার বানানো খুবই কঠিন। তাই সফটওয়্যার শিল্পে ফ্রিলেন্সিং  এর থেকে বেশি প্রয়োজন দক্ষ জনবল যারা ভালো ও উন্নত মানের সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে। আর তাহলেই টাকা আসবে।

ক্লাউড ও বিগ ডাটা নিয়ে এখন পৃথিবী তোলপাড়। আর বেশিদিন দূরে নয় যখন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কোন মানুষের করার দরকার পরবে না। এরমধ্যেই অনেকে এটা অটোম্যাট করে ফেলেছে, যেমন অনেক প্লাগ-ইন বিগ ডেটা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে মানুষের থেকে ভালো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে পারে। কাজেই দিন দিন এধরেন কায়িক পরিশ্রম নির্ভর চাকরীগুলো হারিয়ে যাবে। তাই এখনি সঠিক সময় যে আমরা আমাদের ট্রেনিং গুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী ভাবে সাজিয়ে তুলি যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা প্রতিযোগিতা করতে পারি।

আমরা বিশ্বাস করি যে আমরাও পারি, আর আমরা পারব – আমি বিশ্বাস করি, ডেভস্কিল বিশ্বাস করে, আর এই বিশ্বাস আমরা ছড়িয়ে দেব সারা দেশে ইন শা আল্লাহ্‌।

আমরা আশা করি যেসব ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান ভুল পথে হাঁটছে তারা নিজেদের ধ্যানধারণা পরিবর্তন করবে, এতে তাদেরও লাভ হবে, আমাদের আইটি শিল্পের লাভ হবে, আইটি কর্মীদের লাভ হবে, সর্বোপরি দেশের লাভ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *