যেভাবে একজন প্রোগ্রামারের জীবন ধ্বংস হয় (কেস স্টাডি ৪ – শেষ পর্ব)

রাফির ঘুম ভেঙে গেল হঠাৎ। ঘড়ির দিকে চোখ পরল, সকাল ৮টা বাজে। লাফিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে গিয়ে মনে পরলো, আজ আর ভার্সিটি যেতে হবে না তার। ঘুম ঘুম ভাবের ভিতরেও একটা অজানা শুন্যতা অনুভব হল তার। এতদিনের দৈনন্দিন অভ্যাস আজ হঠাৎ করে বদলে গেলো। চিরচেনা ভার্সিটির চত্বর এখন আর তার জন্য অপেক্ষা করছে না। দেখতে দেখতে কিভাবে ৪টা বছর পার হয়ে গেলো ভাবতেই অবাক লাগে তার, এখনও মনে হয় এইতো সেই দিন যেন প্রথম ক্লাসটা করেছিল সে।

মুখ হাত ধুয়ে পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলো সে, আজ আর কিছু পড়তে হবে না তার। কোন তাড়া নেই তারপরও “এখন কি করবে” এই চিন্তাটা কেন যেন মাথার মধ্যে গেরে বসলো। আগে ভেবেছিলো লেখাপড়ার পাট চুকলে বেশ কিছুদিন আড্ডা মেরে, আর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে মনের যত অপূর্ণ ইচ্ছা আছে সব পূর্ণ করে নিবে। কিন্তু এখন কেন যেন সেটা তার কাছে আর আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে না। হঠাৎ করে যেন বয়স বেড়ে গেছে তার।

দেখতে দেখতে আরও ২টা মাস পার হয়ে গেলো। থিসিস, কনভোকেশন সব শেষ। এখন আসলেই তার কিছু করার নেই। চাকরির জন্য বাসা থেকে ইতিমধ্যেই বাবা মা চাপ দিচ্ছেন। কেন জানি তাঁদের ধারনা, সে বাদে তার অন্য সব বন্ধু ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গেছে। অথচ সে দেখছে, তার ৩ বন্ধু কেবল চাকরি পেয়েছে, কিন্তু ৭ জন এখনও বাকি। তবে বাবা-মার সাথে কখনো এ নিয়ে বিতর্কে যায় না রাফি। একটা চাকরি দরকার, এটাই হল আসল কথা।

বন্ধু রবিনকে ফোন দিল রাফি। কি করা যায় প্ল্যান করার জন্য। বেশ কিছুদিন ধরেই জব সাইটে ঘুরাঘুরি করছে রাফি। কিন্তু ফ্রেশারের জন্য যুতসই কিছু এখনও পাচ্ছে না। সব জায়গায় ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতা আর বিশাল রিকুয়ারমেন্টের লিস্ট। রবিন তাকে বুদ্ধি দিল এসবের তোয়াক্কা না করে সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করতে। বুদ্ধিটা মনে ধরল রাফির। কিন্তু সিভি তো লিখতে হবে। কিভাবে সিভি লিখতে হয়, তাই জানা নেই তার। এখানেও রবিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। ঝটপট একটা সিভির ফরম্যাট ইমেইল করে দিল সে।

রবিনের ইমেইল করা সিভির মধ্যে নামধাম পরিবর্তন করে চোখ বন্ধ করে সব জবে অ্যাপ্লাই করতে লাগলো রাফি। ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারলো না, তার আরও ২৩ জন ক্লাসমেট একই কাজ করছে। এমনকি ঐ সিভির ফরম্যাটে যে একটা বানান ভুল ছিল সেটাও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে প্রত্যেকের সিভিতে। আর রবিনও এই ফরম্যাটটা পেয়েছে তার বন্ধুর কাছ থেকে, আর সে তার এক সিনিয়র ভাইয়ের কাছ থেকে। প্রথম কে এই সিভিটা লিখেছিল এবং কবে, এটা একটা গবেষণার বিষয় হতে পারে। এই সিভিগুলো দেখার পর কোন কোম্পানির টিম লিডের মনের অবস্থা কি হতে পারে, তা বুঝার কোন উপায়ই রাফির ছিল না।

তবে একটা চালাকি রাফি করেছে, যেহেতু দেখেছে জব পোস্টে অনেক কিছু চায়, তাই সে সবগুলো পোস্ট থেকে যা যা পেয়েছে সব নিজের স্কিল লিস্টে দিয়ে দিতে ভুল করেনি। এখন আর কেউ তাকে ইন্টারভিউতে না ডেকে পারবে না, মনে মনে ভাবল সে। কিন্তু এ যে এক মহা ভুল, তা রাফিকে বলে দেবার কেউ ছিল না। সব জায়গায় অ্যাপ্লাই করে ইন্টারভিউ কলের অপেক্ষায় থাকল সে।

দেখতে দেখতে আরও ৪টা মাস পার হয়ে গেছে। রাফি বেশ হতাশ। চাকরি তো দূরে থাক, ইন্টার্ভিউতেই কল পাচ্ছে না রাফি। ফোন করে রবিনের খোঁজ নিল, তারও একই অবস্থা। ভার্সিটিতে প্রোগ্রামিং নিয়ে তেমন একটা ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়নি তাদের। সিনিয়র কোন ভাইের সাথে তেমন একটা যোগাযোগ নেই। তারপরও খুজে পেতে একজন কে বের করল তারা। সিনিয়র ভাইয়ের সুপারিশে শেষ পর্যন্ত একটা কোম্পানি থেকে ইন্টার্ভিউের জন্য ডাক পেলো তারা।

যথাসময়ে ইন্টার্ভিউ দিতে হাজির হল রাফি। কিন্তু রবিনের খোঁজ নেই, ছেলেটার সময় জ্ঞান আর হল না, মনে মনে ভাবল রাফি। রাফির আগেই রবিনের নাম ডাকা হল, কিন্তু রবিন তখন ট্রাফিক জ্যামে আটকা, তাই রাফিই ঢুকল ইন্টার্ভিউ দিতে।

এর আগে কখনো ইন্টার্ভিউ দেয়নি রাফি, তাই একটু ভয় ভয় করছিল তার। ইন্টার্ভিউতে সবাই খুব বন্ধু সুলভ আচরণ করল। এটা আশা করেনি রাফি। বেশ রিলাক্স ভাবেই ইন্টারভিউ দিল সে। বেশিরভাগ প্রশ্নই মাথার উপর দিয়ে গেল রাফির, তবে চেষ্টার কমতি করলো না সে। রাফি অবাক হল, ইন্টার্ভিউতে কেউ তার সার্টিফিকেট দেখতে চাইল না, তার ভার্সিটির প্রোজেক্টগুলোও নিয়ে গিয়েছিলো, তাও দেখলেন না তারা। শুধু প্রোগ্রামিং নিয়েই প্রশ্ন করে গেলেন। রাফি বুঝতে পারলো, ভার্সিটিতে প্রোগ্রামিং নিয়ে সিরিয়াস না হওয়াটা আজকে তার জন্য কাল হয়ে যেতে পারে।

ইন্টার্ভিউের পর অনেক আশায় ছিল রাফি যে চাকরিটা হয়ত হয়ে যাবে। কিন্তু সেখান থেকে আর কোন কল পেলো না সে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রাফি, সবাই আশা করে আছে চাকরি কবে হবে। মানসিক চাপ খুবই অসহ্য লাগতে লাগলো তার। হঠাৎ একদিন জানতে পারলো রবিনের চাকরি হয়ে গেছে। তবে কোন সফটওয়্যার কোম্পানিতে নয়, একটা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে। রবিন তাকে বুদ্ধি দিল এখানেই ঢুকতে, সে সাহায্য করতে পারবে। একটা চাকরি এই মুহূর্তে রাফির খুবই দরকার। ব্যাংকের বেতনও শুরু ৩০,০০০ থেকে। তাই বুদ্ধিটা মনে ধরল রাফির। রবিনের কিছু সাহায্যে, খুব সহজেই ইন্টারভিউ উৎরে গেল সে।

চাকরির এক বছরের মাথায় বিয়ে করল রাফি। তারপর পার হয়ে গেছে আরও ৩টি বছর। এখন সে ব্যাংকের সিনিয়র কাস্টমার কেয়ার অফিসার। বেতন ৪০,০০০। কিন্তু তার বন্ধুদের অনেকের বেতন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বেতন যেমন হোক, রাফির স্বপ্ন ছিল প্রোগ্রামার হবার, কিন্তু রাফিও এখন বোঝে এটা এখন খুবই কঠিন কাজ। এমবিএ করে এই পেশাটাকেই আপন করে নেবার সিদ্ধান্ত নিল সে।

যদিও রাফির জীবন চিত্রটি অনেক শিক্ষার্থীর সাথে মিলে যায়, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আমরা ভুলগুলো জানলাম, আর এর সমাধানগুলোও আলোচনা করবো। যারা সতর্ক হয়ে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবে, তারা আশা করছি নিজেদের একদিন ভাল প্রোগ্রামার হিসাবে গড়ে তুলতে সফল হবে। তবে একটি কথা বলে নেয়া দরকার, প্রোগ্রামিং ভাল না লাগলেও যে প্রোগ্রামার হতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। যারা অন্য পেশায় যেতে ইচ্ছুক বা যাদের প্রোগ্রামিং ভালো লাগে না, তাদেরকে আমরা বরং নিজেদের পছন্দের বিষয়টি বেছে নিয়ে সেখানে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকি।

যাই হোক এখন আমরা রাফির ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করবো-

রাফি প্রথম যে ভুলটি করেছে তাহল, সে আগে বুঝতে পারেনি যে প্রোগ্রামার হিসাবে ক্যারিয়ার গড়তে হলে তাকে নিয়মিত প্রোগ্রামিং এর সাথে যুক্ত থাকতে হবে। এটা আসলে আমরা ভার্সিটি লাইফে বহুবার শুনে থাকি। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন কারণে এটা হয়ে উঠে না। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে, যখন আপনি সিভি লিখতে বসবেন, তখন আপনার রাতারাতি প্রোগ্রামিং শিখা সম্ভব হবে না। কাজেই পাশ করার আগে আপনি ভাল প্রোগ্রামিং পারেন এটা নিশ্চিত করতেই হবে। এজন্য ভালো প্রোগ্রামারদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। তারা যেভাবে নিয়মিত প্রোগ্রামিং করে সেভাবে আপনাকেও অনুসরণ করতে হবে। অনেক সময় যারা ভাল প্রোগ্রামিং করতে পারে না, তারা নিজেদের ভুলগুলো না শুধরে এবং ভালো প্রোগ্রামারদের অনুসরণ না করে বরং তাদের সাথে ঠাট্টা তামাসা করে বিষয়টা এড়িয়ে যায়। এর ফলে ভাল প্রোগ্রামাররাও তাদের সাথে মেশে না।

ভার্সিটি লাইফে ভালো সিনিয়র প্রোগ্রামারদের সাথে লিংক রাখা এবং তাদের উপদেশ মেনে চলা খুব কাজে লাগতে পারে। পাশ করার পর যদি কোন ভাল সিনিয়রের সাথে ভালো পরিচয় থাকে এবং তিনি আপনার প্রোগ্রামিং এর উপর আস্থা রাখেন, তাহলে অনেক কোম্পানি থেকে কল পাওয়া সহজ হয়। কাজেই তাদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখতে চেষ্টা করবেন।

সিভি একটা মান্ধাতা আমলের বাতিল জিনিষ। এটা না প্রোগ্রামারের কোন কাজে লাগে, না সফটওয়্যার কোম্পানির কোন কাজে লাগে। ডেভস্কিল চেষ্টা করছে এই বাতিল জিনিষটার উপদ্রপ থেকে আমাদের প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে উদ্ধার করার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যেহেতু এটাই একমাত্র পন্থা তাই সিভি লেখার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। যদি আপনি ইন্টারভিউতেই কল না পান, তাহলে তো আর নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারছেন না। অবশ্যই কারো সিভি কপি করবেন না। নিজে লিখবেন, বানান ও গ্রামারের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। কখনই সিভিতে নিজেকে সবজান্তা হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না। বরং কোন একটি প্রোগ্রামিং প্ল্যাটফর্মের উপর ফোকাস করতে চেষ্টা করবেন। যেমন যদি জাভা প্রোগ্রামার হন, তাহলে জাভাকেই প্রাধান্য দিবেন। নেটওয়ার্কিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি এর সাথে যেন না আসে। নিজেকে যখন প্রোগ্রামার হিসাবে তুলে ধরবেন তখন অন্য অপ্রয়োজনীয় দক্ষতা উল্লেখ করার দরকার নেই। যেমন আপনি মাইক্রোসফট অফিসে খুব দক্ষ, কিংবা উইন্ডোজ চালাতে জানেন এমন ফালতু জিনিষ দিয়ে সিভির গুরুত্ব নষ্ট করবেন না।

সিভি লেখার ক্ষেত্রে খুব ছোট ফন্ট বা খুব বড় ফন্ট ব্যাবহার করবেন না। পড়তে সহজ হয় এমন ফন্ট ব্যাবহার করুন। অযথা সিভির পৃষ্ঠা সংখ্যা বারাবেন না। যত কম সময়ে সিভি থেকে আপনার দক্ষতা যাচাই করা যায়, ততই ভালো। যিনি সিভি পড়ছেন তার হাতে আরও ২০০-৩০০ সিভি আছে, একথা মাথায় রাখবেন।

গৎবাঁধা সিভি কারোই পড়তে ভালো লাগে না। সিভি তৈরিতে অভিনব সৃজনশীলতা ব্যাবহার করতে পারলে ভালো, তবে মাত্রাতিরিক্ত কিছু যেন না হয়। নিজের দক্ষতা এবং সিভির মূল বিষয় যেন হারিয়ে না যায়।

ভার্সিটির সিজিপিএ ও প্রোজেক্ট কেন ইন্টারভিউতে গুরুত্ব পায় না এ জিনিষটা বুঝা দরকার। একমাত্র কারণ, এগুলো থেকে কেউ নিশ্চিত করতে পারবে না আপনার প্রোগ্রামিং দক্ষতা কতখানি। যেমন আমরা সবাই জানি, আপনি অল্প কিছু কোড করেও ভালো সিজিপিএ পেতে পারেন, আবার খারাপ সিজিপিএ থাকলেই যে আপনি প্রোগ্রামিংএ ভালো তা বলা যায় না। আসলে এই দুটোর মধ্যে কোন প্রমাণযোগ্য সম্পর্ক নেই। প্রোজেক্ট গুলো যে আপনি নিজে একা করেছেন, বা আদৌ করেছেন তাও প্রমাণ করার উপায় নেই। ভার্সিটিতে অনেকেই নিজে প্রোজেক্ট না করে বন্ধুকে দিয়ে করিয়ে নেয়। ভার্সিটির কোর্স কোন গুরুত্ব পায় না, কারণ আপনি যে কোর্স করেছেন, তা আপনার বন্ধুরাও করেছে, কাজেই এগুলো দিয়ে আপনাকে আলাদা করা যায় না।

বরং যে জিনিষগুলো প্রমাণ করতে পারে যে আপনি আসলেই এমন কিছু করেছেন যা আপনার প্রোগ্রামিং দক্ষতা নিঃসন্দেহে প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আপনার সিভি আলাদা গুরুত্ব পাবে। যেমন আপনি যখন লেখেন যে আপনি ন্যাশনাল প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন এবং মোটামুটি একটা রেঙ্ক পেয়েছেন, তখন এর দ্বারা নিঃসন্দেহে প্রমাণ হয় যে প্রোগ্রামিংএ আপনার কিছু দক্ষতা আছে। ডেভস্কিল (www.devskill.com) এমন একটা প্রোফাইল তৈরি করছে যেখানে ভালো প্রোগ্রামারদের দক্ষতা প্রমাণের কিছু মানদণ্ড আমরা দিচ্ছি। যেমন Stackoverflow, github, UVA ইত্যাদি ওয়েবসাইটে যদি আপনার স্কোর থাকে তাহলে এগুলো নিঃসন্দেহে আপনার প্রোগ্রামিং দক্ষতা প্রমাণ করে। যদিও যাদের এগুলোতে স্কোর নেই, তারা সবাই যে অদক্ষ তা নয়। তবে যাদের ভাল স্কোর আছে, তারা নিঃসন্দেহে ভাল। যারা ভাল কিন্তু স্কোর নেই, তাদের স্কোর না থাকার কারণ, তারা এই ব্যাপারে উদাসীন। তারা নিজেদের কাজ দিয়ে এমন জায়গায় পৌঁছে গেছেন যেখানে অন্য অনেক কিছু হয়তো তাদের দক্ষতা প্রমাণ করে। কিন্তু তারপরও এই বিষয়ে উদাসীন না থেকে নিজেদের প্রমাণ করা যায় এমন মানদণ্ড অনুসরণ করলে তা কোন একদিন কাজে লাগতে পারে। যেমন দেশের বাইরে চাকরির ক্ষেত্রে হয়তো এটা একদিন আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যদিও মনে হতে পারে আমরা নিজেদের প্রচারণা চালাচ্ছি, কিন্তু আসলে আমরা ডেভস্কিল প্রোফাইল তৈরি করেছি যাতে এর দ্বারা প্রোগ্রামাররা নিজেদের প্রমাণ করার একটা দিকনির্দেশনা পায়। আপনি যদি সিভিতে আপনার ডেভস্কিল প্রোফাইল লিংক লিখেন, যিনি সিভি পরবেন, তিনি কৌতূহলী হবেন কারণ এটা একটা আনকমন জিনিষ। তারপর তিনি লিংকে যাবেন, এটা মোটামুটি নিশ্চিত এবং সেখানে তিনি আপনার Stackoverflow, github, UVA স্কোর একত্রে দেখতে পারছেন। তার মানে মাত্র এক মিনিটে আপনি তাকে আপনার দক্ষতার একটা নমুনা দিয়ে দিতে পারলেন।

রাফির আরেকটি ভুল ছিল, সে হতাশ হয়ে এবং ব্যাংকের প্রাথমিক মোটা বেতনের লোভে নিজের লক্ষ্য ভুলে গিয়ে এমন একটি জবে ঢুকে গেছে যেখান থেকে তার ফেরা অনেক কঠিন। ক্যারিয়ারে সব সময় সুদূরপ্রসারী প্ল্যান করতে হবে। কিছুদিন বকাঝকা শুনতে হলেও ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। রাফির চাকরি পেতে কিন্তু ৬ মাসের উপর সময় লেগে গেছে। এই সময়টাও যদি সে কঠোর পরিশ্রম করত ও প্রোগ্রামিংএ সময় দিত, তাহলে সে অনেকটাই নিজেকে ঝালাই করে নিতে পারতো। কিন্তু তা না করে, সে এলোমেলো ভাবেই অ্যাপ্লাই করে একটা চাকরি পেতে চেষ্টা করেছে। একজন ফ্রেশারের কাছে কেউ আহামরি প্রোগ্রামিং দক্ষতা আশা করে না। বেসিক মোটামুটি ভালো থাকলেই ইন্টারভিউ উৎরে যাওয়া সম্ভব। আর এটা করতে জিনিয়াস ও হতে হয়না, অনেক সময়ও লাগে না, তবে একটা ৬ মাসের প্ল্যান নিয়ে লেগে থেকে কাজ করতে হবে। সময় নষ্ট করা যাবে না। আমি কি শিখবো, সেটা কিভাবে দ্রুত শিখা যায় এগুলো ভাবতে হবে, এবং ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে আগাতে হবে।

প্রোগ্রামিং একটি মজার পেশা। এখানে যেমন অনেক মজা আছে, তেমন আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। অন্য কোন পেশায় এত দ্রুত সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। শুধুমাত্র কিছু ভুল সিদ্ধান্ত, কিছু জিনিষ না জানার জন্য অনেকেই এই পথ থেকে পিছলে পরে অথবা যথাযত সফলতা পায় না। তাই আমরা চেষ্টা করলাম বিষয়গুলো পরিস্কার করতে ও সচেতনতা তৈরি করতে। মনে রাখবেন, সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা, সমস্যাকে ভয় পাওয়া, হতাশ হওয়া ইত্যাদি হল পরাজিত মানুষের লক্ষন। জয়ী মানুষ সমস্যাকে সমাধান করে সামনে এগিয়ে যায়।

সকলের জন্য একটি সফল ভবিষ্যতের শুভকামনা রইলো।

 

মোঃ জালাল উদ্দিন,

প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, ডেভস্কিল.কম

 

ডেভস্কিলের কিছু বিশেষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স –

  1. Software Design Patterns for Software Engineers

  2. Object Oriented Programming in Practice

  3. Full Stack Asp.net MVC Development

  4. C# Programming Language

You may also like...

31 Responses

  1. jedi says:

    Stackoverflow,github,UVA ছাড়া অন্য আরো কিছু রাখলে ভাল হয়৷ যেমন codeforces.

    • MD. Jalal Uddin says:

      Coming soon. Codeforces এর API ই তো আমাদের চেষ্টায় পানি ঢেলে দিল। ভাবছি তাদের কাছে এই বিষয়ে একটা ইমেইল করবো।

  2. সিফাত আহমেদ says:

    ভাইয়া , যারা গেইম ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের দিকে যেতে চায় তাদের জন্য যদি একটু পরামর্শ দিতেন, খুব ভালো হত।

    • MD. Jalal Uddin says:

      আসলে গেইম ডেভেলপমেন্টের জন্য আলাদা করে কোন পরামর্শ না দিয়ে আমি যেটা বলব তা হল, সব ক্ষেত্রেই ঐ ক্ষেত্রে যারা এক্সপার্ট তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া উচিৎ। আমি গেইম ডেভেলপমেন্টে এক্সপার্ট না, তবে যেটা শুনেছি, বাংলাদেশ সরকার এই সেক্টরে বিনিয়োগ করার চিন্তা করছে। সেক্ষেত্রে হয়ত এখানে সম্ভাবনা আছে, তবে প্রতিকূলতা হল, আমাদের দেশে এই সেক্টরে ভালো করেছে এমন লোক খুব কম, তাই যারা এখানে কাজ করবে তাদের নিজেদেরকেই উদ্যোগী হতে হবে এবং নিজেকেই নিজের অনুপ্রেরণা বানাতে হবে। অন্য কারো সাহায্যের আশায় বসে থাকলে হবে না। ছোটখাটো গেম অনেকেই বানাতে পারে কিন্তু সেগুলো দিয়ে বড় কিছু করা কঠিন। ভালো গেম বানাতে হলে অনেক বড় মাপের কাজ করার স্বপ্ন, প্ল্যান, ও সাহসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এক্ষেত্রে নিজের অনুপ্রেরণা থাকলে কোন কিছুই কঠিন নয়।

  3. Sina says:

    So, according to the case study 1,2,3 and 4, it seems nobody is safe in a software firm. If so then Rafi’s profession is better than his programmer friend whose salary 10000 or more.

    • MD. Jalal Uddin says:

      It depends on what type of life you like to choose. In software company and in today’s competitive world only someone who competes will survive. What is the insurance that rafi will not get fired by a software automation someday? Very soon people who has no creativity and challenge taking ability may get replaced by robots and artificial intelligence. This is why there is so much lack of programmer job in the world where millions of jobs are getting lost in other field every year. The difference is, an unskilled programmer always have risk, but a skilled programmer will never have risk in shaa Allah. But as it seems a skilled banker can be still in risk in the pace technology is moving.

      • Sina says:

        Like “The difference is, an unskilled programmer always have risk, but a skilled programmer will never have risk In Sha Allah. But as it seems a skilled banker can be still in risk in the pace technology is moving.”

      • Mashpy Says says:

        উচ্চ লেভেলের চিন্তাভাবনা। Like it => “The difference is, an unskilled programmer always have risk, but a skilled programmer will never have risk in shaa Allah. But as it seems a skilled banker can be still in risk in the pace technology is moving.”

  4. Hamidul says:

    আচ্ছা যাদের একাডেমিক কোন ডিগ্রী বা গ্রাজুয়েশন নাই সিএসই এর উপর , যদি তারা প্রোগামিংর উপর ইন্টারেস্টেড হয় তাদের কি কোন ভবিষ্যৎ আছে ? তারা কি ভাল কোন জবে যেতে পারবে ?

    • MD. Jalal Uddin says:

      আসলে পারা উচিৎ। কারণ একাডেমীতে তো আসলে কিছু বইই পড়ানো হয়। ঐ বই বা বইের বিষয়বস্থু জেনে নিলে কিন্তু আসলে জ্ঞানের দিক থেকে কোন পার্থক্য থাকা উচিৎ নয়। যে কারণে সমস্যা হয় তাহল মানুষের মনোভাব। আর যারা অন্য বিষয়ে পড়ালেখা করে প্রোগ্রামিংএ আসে তাদের নিজেদের ভুলে একটা নেগেটিভ মনোভাব তৈরি হয়েছে। যেমন মনে করুন, একজন ফিজিক্সে পড়ার পর সেখানে খুব ভালো ভবিষ্যৎ না দেখে আর আইটিতে অনেক সম্ভাবনা দেখে ঠিক করলেন, কোথাও থেকে প্রোগ্রামিং এর উপর একটা কোর্স করে এই পেশায় আসবেন। কিন্তু ব্যাপারটা এত সোজা নয়। একটা কোর্স করে খুব দ্রুত প্রোগ্রামার হওয়া যায় না। অনেক দিন ধরে লেগে থাকতে হয়। যারা সিএসই তে চার বছর ধরে পরে তারা এই সময়টা অল্প অল্প করে শিখলেও অনেক শিখে ফেলে। আর যারা অন্য পেশা বা লেখাপড়া থেকে আসেন তাদের অনেকের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে, তারা জুনিয়র হিসাবে নিজেদের ক্যারিয়ার শুরু করার পর্যায় থাকেন না। এর ফলে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো ইন্টারভিউতে অন্য ব্যাকগ্রাউনড থেকে যারা আসে তাদেরকে একজন সিএসই ফ্রেশারের থেকেও দুর্বল দেখতে পান। এটা এত বেশি ঘটেছে যে এখন সবাই ধরেই নেয় যে চোখ বন্ধ করেই ধরে নেয়া যায় যে অন্য ব্যাকগ্রাউনড থেকে কেউ আসলে তারা ভালো প্রোগ্রামার হবে না। অথচ এটা সম্পূর্ণ একারণে ঘটে যে অন্য ব্যাকগ্রাউনড থেকে যারা আসেন তারা নিজেদের প্রস্তুত করে আসেন না। যদি কেউ এই ভুল না করে নিজেকে প্রমাণ করার মত যোগ্যতা নিয়ে আসতে পারে, তাহলে তার জন্য ব্যাকগ্রাউনড কোন ব্যাপারই না। শুধু সিভি লেখার সময় প্রথমেই নিজেকে তুলে ধরতে হবে এবং এমনভাবে সিভি লিখতে হবে যাতে যিনি পড়ছেন তিনি বুঝতে পারেন যে আপনাকে যাচাই করে দেখায় তার কোন সময় নষ্ট হবে না।

    • saiful islam says:

      আমি মনে করি তাদের ক্ষেত্রে খুব বেশী ভবিষ্যত নাই। আমার এক পরিচিত ভাই অনেক ভালো প্রোগ্রামার হওয়া সত্ত্বেও সে বেকার। এই ক্ষেত্রে যে জিনিসটা ঘটে তা হলো একটা নির্দিষ্ট পজিসনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু হওয়া উচিত এরকম একটা রুলস প্রায় সব কোম্পানিতেই থাকে। একটা টিমের মধ্যে কাজ করতে গেলে মানসিকভাবে খাপ খাবে কিনা, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে কি না অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। একটা টিমে ৪ জনের সার্টিফিকেট থাকলে অন্য একজনের যদি না থাকে এইখানে এই একজনের সাথে ওই তিনজনের মানসিকতার বিশাল একটা গ্যাপ তৈরী হবে। এরকম অনেক কিছু চিন্তা করে কোম্পানির সিনিওয়রা গ্রাজুয়েশন ছাড়া কোন প্রোগ্রামারকে নিতে চায় না যদিও অনেক সার্কুলারে ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেয় না। তারপরেও যেইখানে ডিগ্রীধারী প্রোগ্রামারের অভাব নেই সেইখানে ডিগ্রী ছাড়া একজনকে কেন নিবে কোনো কোম্পানিতে? আবার ভবিস্যত যে একবারেই নাই তা বলা যায় না। ফ্রীলান্সিং করে অনেকেই অনেক টাকা উপার্জন করছে।

      • MD. Jalal Uddin says:

        হ্যাঁ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা এমন, তবে আমরা তারপরও মনে করি অনেক ক্ষেত্রে প্রোগ্রামাররা নিজেদেরকে ঠিকমত তুলে ধরতে পারেন না। নিজেকে ভালো প্রোগ্রামার প্রমাণ করতে পারা খুব সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে যখন সিভি একমাত্র পথ। তবে বুদ্ধি করে আগালে অনেক কিছু অন্য রকম হতে পারে। আমি বেশ কিছু নাম করা প্রোগ্রামারকে চিনি যারা অন্য ব্যাকগ্রাউনড থেকে এসেছেন। বড় অনেক কোম্পানি হয়ত ব্যাকগ্রাউনডকে বড় করে দেখতে পারে তবে মাঝারি কোম্পানিগুলো যে কারণে অন্য ব্যাকগ্রাউনডের লোক নিতে চায়না তাহল, তারা কোন ঝুকি নিতে চায়না। তবে এখানে অর্জনটাকে আমরা নিজের যোগ্যতার উপর ছেড়ে দিতে চাই। অসম্ভব আসলে কিছুই না। এটা আসলে যার যার উপর নির্ভর করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা যে অনেক কঠিন হবে, তা নিশ্চিত।

  5. aslam says:

    oshadharon

  6. Md.Rifat Anwar says:

    Programming er surute basic strong korar jnne kon writer er boi gulo effective hote pare??

    • MD. Jalal Uddin says:

      বেসিকের জন্য রাইটার খুব একটা ম্যাটার করে না। আর নির্ভর করছে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে শুরু করবেন তার উপর। প্র্যাকটিস টাই আসল দরকার। যেকোনো কুইক স্টার্ট টাইপ ছোট বই হলেই ভালো, কারণ অনেক বই পড়তে হবে। একটা পড়লে হবে না। তাই ছোট দিয়ে স্টার্ট করে, তারাতারি বেসিক শিখে আরও এডভান্স বই পড়াই। মোটা বই দিয়ে শুরু করলে মাঝ পথে গিয়ে হাল ছেড়ে দেবার সম্ভাবনা থাকে। মোটা বই সাধারণত কাজ করার সময় কোথাও আটকে গেলে কাজে লাগে।

  7. kawsar says:

    Is it difficult that someone is start his career with php , then move in another language?

    • MD. Jalal Uddin says:

      No. I have started my career in php and then moved to .net. This should not be hard. But the question is why you want to do that. It is better if you choose your final platform as early as possible so that you can spend more time on it and master it. This is why I moved to .net just after working 9 months as php programmer.

  8. Shadab says:

    Jalal vaia what is the difference between CV and Résumé??

    • MD. Jalal Uddin says:

      I think this answer you can find in google 🙂

      • Shahariar Ahmed says:

        jalal vaiya…. apni ki kono ekdin amake ebong amar ekta friend k 30 minutes shomoi personally dete parben…. amader kicchu question + some confusion ache… question gular ans deben just R kicchu na… amader ashe pashe programming sector er keao nei tai karo help nete pari na kono senior vai er kacche… 2 years dhore kicchu jenis na bujte parai shamner dik e agate parce na… Tobuo haal chere dei ni…. Still trying…. eka eka shikteci so amader jonno kov e kosto kor… can You or anyone in your team can help us? Just 30 minutes

  9. Zahidul Alam says:

    I think company should change their job circular too, if you are expecting good CV from freshers than not ask 100 skill list from a fresher in a job circular when you it is not possible for fresher to expertise all of those.

  10. muntasir14 says:

    ভাইয়া, বাংলাদেশে hardware engineering, embedded systems engineering, OS designing এর job opportunities সম্বন্ধে জানতে পারলে উপক্রিত হতাম।

    • MD. Jalal Uddin says:

      আমার জানা মতে সম্ভাবনা খুব কম। আস্তে আস্তে শুরু হচ্ছে যদিও, কিন্তু সময় লাগবে।

  11. md sharif hasab says:

    ভাইয়া আমি প্রোগ্রামার হতে চাই এটা আমার মনের ইচ্ছা।।।কিন্তু অনেকে অনেক সময় বলে,প্রোগ্রামার হওয়া এতো সহজ না, জানি সহজ না তাই বলে আমার বলে আমার ইচ্ছা পুরন হবে না???শুরুতেই সবাই ভয় দেখালে তাহলে আমি কেমনে সাহস দেখায়।।। বুঝতাছি কি করব? ভাইয়া যদিও বা আমার কথা গুলা গুছিয়ে বলতে পারি নাই, আমি কি বলতে চাচ্ছি সেটা হইতোবা আপনি একটু বুজতে পারছেন।।।

    • MD. Jalal Uddin says:

      প্রোগ্রামিং শেখা খুবই সহজ। তবে ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু এটা তো যেকোনো কিছুতে ভালো করতে হলেই করতে হয়। একজন ক্রিকেটার যদি ভালো করতে চায় তাহলে কি তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয় না? আসল কথা হল কঠিন সময়ে আগ্রহ হারিয়ে না ফেলা। যে লেগে থাকতে পারে আর প্র্যাকটিস করে যেতে পারে, তার জন্য ভালো করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেকোনো জিনিষে আগ্রহ ও প্যাশন থাকলে পরিশ্রম করতে খারাপ লাগে না। আর ভালো করাও আটকায় না। শুধু মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক ধাক্কাতে হাল ছেড়ে দেয়া চলবে না। আর মানুষের নেগেটিভ কথায় বেশি কান না দেয়াই ভালো। ভালো কিছু করার ইচ্ছা থাকলে নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।

  12. Asif says:

    web developer othoba app developer hoar jonno ki programming contest kora mandatory?c na sikhe jodi keu university r 1st year thekei web nia kaj korar try kore tahole ki kono problem hbe future e???

    • MD. Jalal Uddin says:

      না, কনটেস্ট করতেই হবে, এমন কোন কথা নেই। আমাদের বুঝতে হবে কোন জিনিষ থেকে আমরা কি পাই? আমরা কনটেস্ট থেকে পাই এলগরিদম, ডেটা স্ত্রাকচার, ম্যাথ সম্পর্কে ভাল ধারণা যা আমাদের স্কুল, কলেজের শিক্ষা বেবস্থা থেকে আমরা তেমন একটা পাই না। আর পাই, স্পীড, লক্ষ্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, টিম ওয়ার্ক, প্ল্যানিং ইত্যাদি যা ছাত্র জীবনে আমাদের পাওয়ার অন্য সুযোগ কম থাকে। এই কারণে যারা কনটেস্ট করে তারা কিছু সুবিধা অবশ্যই পাই, তবে শুধু কনটেস্ট নিয়ে পরে থাকলে আবার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর জ্ঞান পাওয়া যায় না। অনেকে সেটা পরে মেকআপ করে নিতে চায়। এটা যার যার নিজের প্ল্যান ও সক্ষমতার উপর নির্ভর করে। আমি সব সময় মনে করি ছাত্রদের কনটেস্ট ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট দুটোই এক সাথে করতে পারার সক্ষমতা ও সময় থাকে, যদি ফেসবুক ও আড্ডা লাইফ থেকে বাদ দেয়া যায়। জীবনের অপ্রয়োজনীয় জিনিষগুলো বাদ দিলে প্রয়োজনীয় কাজ করার অনেক সময় পাওয়া সম্ভব।

  13. সাজিদ says:

    স্যার কোন ল্যাংগুয়েজ নিয়ে কাজ করলে ভাল হবে?

    • MD. Jalal Uddin says:

      ল্যাংগুয়েজ খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভালো কাজ জানা আর বেসিক ভালো থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে মার্কেট বিচারে, C#, PHP, Java, Python বেশি চলে। C#, PHP এর এখন ডিমান্ড খুব ভালো, আর সামনে Java, Python ভালো করবে বলে মনে হচ্ছে। অন্য ল্যাংগুয়েজ ও ভালো কাজ ভালো জানলে সব ল্যাংগুয়েজ দিয়েই কাজ করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *